ধনবাড়ীতে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে ৭ বছর বয়সী এক শিশুর বস্তবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার(১ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার যদুনাথপুর ইউনিয়নের বারইপাড়া গ্রামের এক পরিত্যক্ত ঘর থেকে এ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত শিশুর বড় ভাই জুবায়ের হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, গত ২৬ জানুয়ারি সোমবার বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় ছোট বোন তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী মারিয়া (৭)। এলাকায় মাইকিং সহ অনেক খোঁজা খুঁজির পর কোথাও না পেয়ে, সন্দেহজনক ভাবে পাশের বংশাই নদীতে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এক দিন উদ্ধার অভিযান চালিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। এঘটনায় আমার বোন জামাই মারিয়ার বাবা উজ্জ্বল হোসেন গত শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ধনবাড়ী থানায় সাধারণ ডায়রি করেন। এর পর থেকেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
এর মধ্যেই রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ভোরে স্থানীয় মুসল্লিরাা ফজর নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তার পাশের মৃত নান্নু মিয়ার পরিত্যক্ত ঘরের ভেতর থেকে লাশের দুর্গন্ধ পায়। স্থানীয়রা পরিত্যক্ত ওই ঘরে খোঁজাখুঁজি শুরু করে ঘরের ভিতরে থাকা এক স্টিলের বাক্সে বস্তাবন্দি অবস্থায় আমার ছোট শিশু বোনটির লাশ দেখতে পায়। পরে পুলিশকে খবর দিলে ধনবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। সেই সাথে আমাদের সন্দেহ করা স্থানীয় ময়েন উদ্দিনের ছেলে সুমন(২৫) ও আ: রহিমের ছেলে রাফিউল(১৬) দুজনকে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়। ওই দুইজন সকল জনসাধারণের সামনে স্বীকার করেছে দু’জনে ধর্ষণের পরে তাকে হত্যা করে বক্সের মধ্যে রেখেছে। এঘটনায় আমার শিশু বোন হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ফাঁসি দাবি করছি।
নিহত শিশুর মা জবেদা, নানা ময়নাল হোসেন ও পরিবারের অন্য স্বজনরা শিশু মারিয়া হত্যাকারীসহ যারা জড়িত আছে তাদেরকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত বিচার ফাঁসির দাবি করছি প্রশাসনের কাছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান উক্ত ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।
এঘটনায় সহকারী পুলিশ সুপার (মধুপুর সার্কেল) আরিফুল ইসলাম ও ধনবাড়ী থানার ওসি নুরুস সালাম সিদ্দিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
সহকারী পুলিশ সুপার (মধুপুর সার্কেল) আরিফুল ইসলাম জানান, বস্তাবন্ধিবস্থায় ঘরের ভিতরে লাশের গন্ধ পাওয়া যায় এমন খবরে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। সেই সাথে উক্ত ঘটনার তদন্তরে স্বার্থে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে পুলিশি হেফাজতে ধনবাড়ী থানায় আনা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মর্গে প্রেরণ করা হবে। ময়নাতদন্তের পর মূল রহস্য জানা যাবে। শিশু মারিয়া নিখোঁজের পর মারিয়ার বাবা উজ্জ্বল হোসেন গত শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ধনবাড়ী থানায় সাধারণ ডায়রি করেছেন।






আপনার মতামত লিখুন
Array