টাঙ্গাইলে জেলা প্রশাসকসহ গুরুত্বপূর্ণ ৭৭ পদে নারীদের দায়িত্ব পালন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৪০ অপরাহ্ণ
টাঙ্গাইলে জেলা প্রশাসকসহ গুরুত্বপূর্ণ ৭৭ পদে নারীদের দায়িত্ব পালন

টাঙ্গাইলে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সরকারি ৭৭ পদ সামলাচ্ছেন নারী সদস্যরা। নানা প্রতিকূলতা ও বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে অগ্রযাত্রার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন নারীরা। সারাদেশের ন্যায় টাঙ্গাইল জেলাতেও কর্মক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই তারা। বিশেষ করে জেলায় সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ সামলাচ্ছেন নারী সদস্যরা। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পুলিশ, শিক্ষা অফিস, স্বাস্থ্য বিভাগ, কৃষি অফিস, নির্বাচন অফিস, ইউএনও, এসিল্যান্ডসহ বিভিন্ন পদে ৭৭ জন নারী দায়িত্ব পালন করছেন।
টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ডিসিসহ সাতজন নারী কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। তারা হলেন- জেলা প্রশাসক শরীফা হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) লায়লা আঞ্জুমান বানু, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শারমীন সুলতানা, সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (জেএম শাখা) নুসরাত জাহান, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (শিক্ষানবিশ) সুমনা আকতার, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা আরেফিন জুঁই এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এল এ শাখা) রিতা সুলতানা।
১২ উপজেলায় তিনজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দায়িত্ব পালন করছেন। তারা হলেন- ধনবাড়ীতে নূরজাহান আক্তার সাথী, বাসাইলে আকলিমা বেগম এবং দেলদুয়ারে জোহরা সুলতানা যূথী। একইভাবে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শামছুন নাহার স্বপ্নাও দায়িত্ব পালন করছেন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন দু’জন। তারা হলেন- সখীপুরের শামসুন নাহার শিলা এবং কালিহাতীর সায়েদা খানম লিজা।
পুলিশ প্রশাসনে গোপালপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ফৌজিয়া হাবিব খান। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হিসেবে ১০ জন দায়িত্ব পালন করছেন। এরা হলেন- দেলদুয়ার উপজেলায় দেওয়ান খায়রুন নাহার, নাগরপুরে শাহীন রুবা আক্তার, মির্জাপুরে শারমিন সিদ্দিকা, গোপালপুরে মাহমুদা খাতুন, মধুপুরে শারমিন সুলতানা সুমি, ঘাটাইলে তাপসী শীল, ভূঞাপুরে আমেনা বেগম, কালিহাতীতে শিল্পী দে, সখীপুরে ফিরোজা আক্তার এবং বাসাইলে কনিকা মল্লিক।
জেলায় শিক্ষা বিভাগে রয়েছেন ছয়জন নারী। তারা হলেন- জেলা শিক্ষা অফিসার রেবেকা সুলতানা, মির্জাপুর উপজেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শাহনাজ পারভীন, ভূঞাপুরে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার তাহমিনা আক্তার, গোপালপুরে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার কামরুন নাহার, দেলদুয়ারে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোসাম্মৎ খাদিজা এবং কালিহাতীতে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার জুলিয়া আক্তার।
এছাড়া টাঙ্গাইল জেলা তথ্য অফিসের সিনিয়র তথ্য অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন তাসলীমা জান্নাত। জেলা পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক জেবুন্নাহার পারভীন দায়িত্ব পালন করছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন পাঁচজন। তারা হলেন- সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. শিমু সাহা, বাসাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শার্লী হামিদ, কালিহাতীতে জিনাত আলম, সখীপুরে রেহেনা পারভীন এবং দেলদুয়ারে সাজিয়া আফরিন।
প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে ১৩ জন নারী দায়িত্ব পালন করছেন। তারা হলেন- সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট তারানা তাসরিন পান্না, ইনস্ট্রাক্টর (সাধারণ) রাজিয়া সুলতানা, ইনস্ট্রাক্টর (কৃষি) নূসরাত শারমিন, ইনস্ট্রাক্টর (সাধারণ) কনিকা আক্তার, ইনস্ট্রাক্টর (সাধারণ) দোলন চাঁপা সাহা, ইনস্ট্রাক্টর (সাধারণ) সাদেকা সুলতানা, ইনস্ট্রাক্টর (সাধারণ) সাইদুন নাহার, ইনস্ট্রাক্টর (সাধারণ) তাসনীম ফেরদৌস চৌধুরী, ইনস্ট্রাক্টর (সাধারণ) আখনুর লাজু, ইনস্ট্রাক্টর (সাধারণ) বিউটি ইসলাম, ইনস্ট্রাক্টর (সাধারণ) ফারজানা ববী, পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শারমিন ইসলাম, লিজা মনি ও সোহরাত মাশরুর।
কৃষি বিভাগে উপজেলা কৃষি অফিসার পদে কর্মরত ছয়জন। তারা হলেন- গোপালপুরে শামিমা আক্তার, সদরে রুমানা আক্তার, সখীপুরে নিয়ন্তা বর্মণ, ঘাটাইলে বিলশাদ জাহান, কালিহাতী ফারাহানা মামুন এবং মির্জাপুরে মাহমুদা খাতুন।
জেলার মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট আঞ্চলিক কার্যালয়ে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাদিয়া হাসান। মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের আঞ্চলিক গবেষণাগার কার্যালয়ে দুজন নারী দায়িত্ব পালন করছেন। এরা হলেন- ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আর্জিনা হক এবং বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ইফফাত জাহান।
টাঙ্গাইল কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ইনস্ট্রাক্টর অফিসে দায়িত্ব পালন করছেন দুজন। তারা হলেন- সিনিয়র ইনস্ট্রাক্টর সুলতানা এবং ইনস্ট্রাক্টর লায়লা আক্তার। যুব উন্নয়ন অধিপ্তরের উপপরিচালক হিসেবে ফাতেমা বেগম দায়িত্ব পালন করছেন।
বিসিক জেলা কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছেন পাঁচজন নারী। তারা হলেন- সহকারী মহাব্যবস্থাপক শাহনাজ বেগম, প্রমোশন কর্মকর্তা রুমানা রশিদ, ভারপ্রাপ্ত জরিপ ও তথ্য কর্মকর্তা আছমা আকতার, কারিগরি কর্মকর্তা আন্তিয়ারা খাতুন এবং সহকারী হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মমতাজ বেগম মায়া।
উপজেলা নির্বাচন অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন সাতজন নারী। তারা হলেন- ঘাটাইলে নাজমা আক্তার, মধুপুরে জিন্নাত আরা, ধনবাড়ীতে আশুরা আক্তার, গোপালপুরে রুম্পা সরকার, ভূঞাপুরে নার্গিস আক্তার, দেলদুয়ারে সহকারী উপজেলা নির্বাচন অফিসার সাব্রিনা মমতাজ, ভূঞাপুরে দিলারা আক্তার এবং কালিহাতীতে তাজনুভা উর্মি।
জেলা সঞ্চয় অফিসের সহকারী পরিচালক ফারহানা পারভীন, জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রে থেরিওজেনোলজিস্ট ডা. সূচনা সরকার, সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা (দায়িত্বপ্রাপ্ত) ফারজানা খান, সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা) উপত্ত্বাবধায়ক তানিয়া আক্তার দায়িত্ব পালন করছেন।
উপজেলার নারী কর্মকর্তারা জানান, মাঠ প্রশাসনের কাজের সমন্বয় ও তদারকি, জেলার সঙ্গে সমন্বয় করে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছেন তারা। নিজ নিজ উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দেখভালও করতে হয় তাদের। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের তদারকি এবং বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখছেন। একই সঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাও করতে হচ্ছে। তবে এবার সরকার পরিবর্তনের পর কাজের চ্যালেঞ্জ ছিল অনেক।
টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষা অফিসার রেবেকা সুলতানা বলেন, ‌দীর্ঘ কর্মজীবনে পুরুষের পাশাপাশি আমরা নারীরাও কাজ করছি। এক্ষেত্রে পুরুষদের সার্বিক সহযোগিতা পাচ্ছি আমরা। এখন পর্যন্ত আমাদের কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়নি। দেলদুয়ার উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা দেওয়ান খায়রুন নাহার বলেন, একদিকে যেমন সংসারের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। অন্যদিকে সঠিকভাবে যথাসময়ে অফিসের দায়িত্ব পালনও করতে হচ্ছে। আমাদের কাজের পরিধি অনেক। বিশেষ করে বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ, যৌতুক, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং শিশু ও নারী পাচার সংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করতে হয়। বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়েই আমাদের কাজ করতে হচ্ছে।
ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরজাহান আক্তার সাথী বলেন, আমরা নারীরা এখনো বিভিন্ন ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছি। আমাদের কাজগুলো অনেক চ্যালেঞ্জের। সব কিছুই মোকাবিলা করে আমরা কাজ করছি। তবে নারী হিসেবে কাজ করতে গিয়ে আমাদের কোনো প্রতিবন্ধকতা মনে হয়নি।
পুলিশ প্রশাসনে কাজের ক্ষেত্রে নারীদের অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফৌজিয়া হাবিব খান। তিনি বলেন, সেসব কিছু মোকাবিলা করেই আমরা কাজ করছি। অনেক সময় জেলার বাইরেও আমাকে বিভিন্ন অভিযানে যেতে হয়। সব কিছুই মোকাবিলা করে সবার সহযোগিতায় সামনের দিনগুলোতে এগিয়ে যেতে চাই।

সংবাদটি tangailnewsbd.comওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। তথ্যের সঠিকতা ও মালিকানা বিষয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে অনুগ্রহ করে মূল সূত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।