ঘাটাইলে ভাঙা সড়কে ভোগান্তিতে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার আনেহলা ইউনিয়নের খায়েরপাড়া বাজারসংলগ্ন প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়কের বেহাল অবস্থায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারবিহীন এই সড়কটি বর্তমানে প্রায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এতে অন্তত ২০টি গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালে সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু হলেও কিছু অংশে কাজ করেই তা বন্ধ করে দেন ঠিকাদার হারুন। এরপর থেকে আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। বর্তমানে সড়কজুড়ে কাদা, খানাখন্দ ও ভাঙাচোরা অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
খায়েরপাড়া বাজার এলাকায় রয়েছে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করে যাতায়াত করেন। এটি পুরো ইউনিয়নবাসীর টাঙ্গাইল শহরে যাওয়ার একমাত্র সহজ রাস্তা হওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
বিশেষ করে যানবাহন চালকদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি। সড়কটি ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় তাদের বিকল্প পথে ৫ থেকে ৬ কিলোমিটার ঘুরে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের শুরুতে লোকেরপাড়া থেকে লুহুরিয়া পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার সড়কের সংস্কারকাজ শুরু করেন ঠিকাদার হারুন। তবে অর্ধেকের কিছু বেশি কাজ করার পর বাকি অংশ ফেলে রেখে কাজ বন্ধ করে দেন তিনি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সুজন মিয়া বলেন, ‘প্রতিদিন মালামাল পরিবহনে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। এলেঙ্গা কিংবা টাঙ্গাইল শহর থেকে পণ্য আনতে গেলে বাড়তি ভাড়া গুনতে হয়। অনেক সময় অটোরিকশা বা সিএনজি চালকরা এই রাস্তায় আসতে চান না, আর এলেও বেশি ভাড়া দাবি করেন।’
স্থানীয় একটি ডেন্টাল ক্লিনিকের চিকিৎসক রুহুল আমিন রনি বলেন, ‘জরুরি প্রয়োজনে শহরে যেতে হলে ৫-৬ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। বিশেষ করে অসুস্থ রোগী ও প্রসূতিদের হাসপাতালে নিতে খুবই কষ্ট হয়। খারাপ রাস্তার কারণে ঝাঁকুনিতে রোগীদের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়।’
সিএনজি চালক সোহান জানান, ‘বর্তমানে এই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালানো খুবই কঠিন। প্রায়ই গাড়ির চাকা ফেটে যায় এবং যানবাহনের ব্যাপক ক্ষতি হয়।’
উপজেলা বিএনপির নেতা তৌহিদুল ইসলাম তারেক বলেন, ‘প্রায় ২০টি গ্রামের ২৫ হাজার মানুষের যাতায়াতের রাস্তা এটি। এলাকার মানুষের শহরে যাওয়ার একমাত্র সহজ রাস্তা। খানাখন্দের কারণে মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনা ঘটে এই রাস্তায়। ২০২৪ সালে ঠিকাদার কাজ শুরু করে অর্ধেক কাজ করে বাকিটা ফেলে রেখে চলে যান। বিশেষ করে পাড়াগ্রাম থেকে লুহুরিয়া পর্যন্ত রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। স্থানীয়রা এই রাস্তা নিয়ে খুবই ভোগান্তিতে আছে। আমরা চাই দ্রুত রাস্তার সংস্কার করা হোক।’
এ বিষয়ে ঠিকাদার হারুন বলেন, ‘অধিকাংশ কাজ শেষ করা হয়েছে, কিছু অংশ বাকি আছে। বিল না পাওয়ায় কাজ বন্ধ ছিল।’ তবে আগামী সাত দিনের মধ্যেই কাজ শুরু করবেন বলে জানান তিনি।
ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমাদুল হাসান জানান, তিনি নতুন যোগদান করেছেন এবং বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সড়কটির সংস্কার কাজ পুনরায় শুরুর দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দ্রুত মেরামত না করলে এলাকার শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।







আপনার মতামত লিখুন
Array