গোপালপুরে যমুনা নদী রক্ষা বাঁধের আকস্মিক ধস

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩২ অপরাহ্ণ
গোপালপুরে যমুনা নদী রক্ষা বাঁধের আকস্মিক ধস

টাঙ্গাইলের গোপালপুরের সাখারিয়া এলাকায় সড়ক কাম যমুনা নদী রক্ষা বাঁধের অন্তত ৬৫ মিটার এলাকায় ধস দেখা দিয়েছে। এতে বাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এছাড়াও তিন দিনেও ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে ও বিকেলে যমুনা নদী রক্ষা বাঁধ কাম ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক কয়েক দফা ধসে যায়। একই সঙ্গে সড়কের মাঝখানে নতুন করে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সড়কে ফাটল ও ভাঙনের খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে ভাঙনরোধে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করা হয়। দুপুরে সাখারিয়া স্লুইসগেট সংলগ্ন ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১০০ ফুট এলাকায় জিওব্যাগ ডাম্পিং করেছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, সড়ক কাম বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি সম্পূর্ণ ভেঙে গেলে গোপালপুরসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যাকবলিত হতে পারে। এতে কয়েক লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের চাপে সাখারিয়া স্লুইচগেট এলাকায় সড়ক কাম বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে সড়কের বড় অংশ নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙনের আশঙ্কায় আশপাশের বাড়িঘরের বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিত নদী খনন ও কার্যকর নদীশাসনের অভাবে যমুনার ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তারা দ্রুত টেকসই নদীশাসন ও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত শামসুল আলম বলেন, সাখারিয়া ও নলিন এলাকার ভাঙনকবলিত স্থানে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আঞ্চলিক সড়কসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হবে এবং বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

সড়কে ফাটল ও ভাঙনের খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে ভাঙনরোধে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করা হয়।

গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মঞ্জুরুল মোর্শেদ বলেন, যমুনায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্রোতের চাপ বেড়েছে। ভাঙনের খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাইন উদ্দিন বলেন, পানির তীব্র চাপে দুই দিনে ৮৫ মিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে এবং নদীর গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কারণে দ্বিতীয় দিন থেকে তারাকান্দি-ভূঞাপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। হেমনগর পুলিশ ফাঁড়ি জানিয়েছে, বিকল্প হিসেবে নলিন বাজার হয়ে যানবাহন চলাচল করছে।