গোপালপুরে বাংলা কিউআর ব্যবহার বন্ধে মরিয়া বিকাশ
ক্যাশলেস লেনদেন বাড়াতে সরকার যখন বাংলা কিউআর ব্যবহারে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে, তখন টাঙ্গাইলের গোপালপুরে এজেন্টদের বাংলা কিউআর ব্যবহার না করার জন্য বিকাশের পক্ষ থেকে মৌখিক নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এজেন্টদের দাবি, যেসব দোকানে বাংলা কিউআর কোড থাকবে, সেসব এজেন্টের সঙ্গে ব্যবসা না করার কথা জানানো হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক এজেন্ট জানান, সম্প্রতি বিকাশের ডিস্ট্রিবিউশন হাউসের গোপালপুর, ধনবাড়ী ও মধুপুর এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজাররা মাঠ পরিদর্শনে এসে বাংলা কিউআর ব্যবহারকারী এজেন্টদের তালিকা করেন। এর পরদিন গোপালপুরের এজেন্টদের বাংলা কিউআরে লেনদেন না করার জন্য মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়।
এজেন্টদের অভিযোগ, বাংলা কিউআর ব্যবহার অব্যাহত রাখলে বিকাশের সঙ্গে তাদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখা হবে না বলেও জানানো হয়েছে।
ডিস্ট্রিবিউশন হাউসের এক প্রতিনিধি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এজেন্টদের দোকানে বাংলা কিউআর দেখতে পেলে মাঠপর্যায়ে চাপ সৃষ্টি করা হয়।
সরকার ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বাংলা কিউআরভিত্তিক লেনদেন বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রেও বাংলা কিউআর কোড রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ব্যবসায়ীদের কিউআর কোডে লেনদেনে উৎসাহিত করতে প্রণোদনার মাধ্যমে চার্জ মওকুফের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
এদিকে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে রুবেল মজুমদার নামে এক এজেন্ট অভিযোগ করেন, বাংলা কিউআর রাখার কারণে তার এজেন্ট ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, বিকাশের ব্যবসা করতে হলে দোকানে বাংলা কিউআর রাখা যাবে না বলে তাকে জানানো হয়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা আল-আমিন বলেন, বাংলা কিউআর চালু হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের সুবিধা হয়েছে। ভাংতি টাকা না থাকায় আগে অনেক সময় বেশি টাকা দিয়ে আসতে হতো। কিউআরভিত্তিক লেনদেনে এ ধরনের সমস্যা কমেছে।
টেলিকম ব্যবসায়ী জাহিদ হোসেনের অভিযোগ, ক্যাশ আউটের পরিবর্তে বাংলা কিউআরে লেনদেন বাড়ায় বিকাশের এজেন্ট ব্যবসায় প্রভাব পড়ছে। এ কারণেই এজেন্টদের বাংলা কিউআর ব্যবহার না করার মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
গোপালপুর উপজেলার সুপারভাইজার হুমায়ূন কবির বলেন, কোনো এজেন্ট পয়েন্টে বাংলা কিউআর ব্যবহারের কারণে বিকাশের লেনদেন কিছুটা কমে যায়। এ কারণে এজেন্টদের বাংলা কিউআরের পরিবর্তে বিকাশের মাধ্যমে লেনদেনে উৎসাহিত করা হয়।
তিনি বলেন, ছোট লেনদেনে আমাদের আপত্তি নেই, বড় লেনদেন আমার কাছে অনৈতিক মনে হয়।







আপনার মতামত লিখুন
Array