ঘাটাইলে ৫ দিনের জমজ নবজাতক ফেলে পলাতক ১৮ বছর বয়সী মা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ
ঘাটাইলে ৫ দিনের জমজ নবজাতক ফেলে পলাতক ১৮ বছর বয়সী মা

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে জন্মের মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় জমজ দুই কন্যাশিশুকে রেখে ১৮ বছর বয়সী এক মা চলে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নবজাতক দুটির বাবা ও পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে ঘাটাইল পৌরসভার ধাড়িয়াল গ্রামে। ওই নারীর নাম মারিয়া। তিনি শান্তিনগর এলাকার ময়েন উদ্দিনের মেয়ে এবং ধাড়িয়াল গ্রামের সোলায়মান হোসেনের ছেলে মো. সাকিব হোসেনের স্ত্রী।

শিশু দুটির বাবা ২০ বছর বয়সী সাকিব হোসেন বলেন, ‘পাঁচ দিনের জমজ শিশুকে নিয়ে আমি চরম বিপাকে আছি। নবজাতক দুটিকে বাঁচাতে এখন মায়ের খুব প্রয়োজন। এলাকাবাসী ও প্রশাসনের সহযোগিতা চাই, তাদের মা যেন দ্রুত ফিরে এসে সন্তানদের কোলে তুলে নেয়।’

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে সাকিব ও মারিয়ার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সে সময় সাকিবের বয়স ছিল ১৭ বছর এবং মারিয়ার বয়স ছিল ১৫ বছর। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাদের সম্পর্কের বিরোধিতা করলেও একপর্যায়ে তারা বাড়ি থেকে চলে যান। পরে তাদের খুঁজে বের করে পরিবারের সম্মতি ও স্থানীয়দের উদ্যোগে বিয়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

বিয়ের প্রায় তিন বছর পর গত ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ঘাটাইলের হাজী খোরশেদ আলী মেমোরিয়াল হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মারিয়া জমজ দুই কন্যাশিশুর জন্ম দেন।

পরিবারের অভিযোগ, সন্তান জন্মের পাঁচ দিন পর গত সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে সাকিবের বাড়ি থেকে নবজাতক দুটিকে রেখে মারিয়া চলে যান। এরপর প্রায় এক দিন পেরিয়ে গেলেও তিনি আর ফিরে আসেননি। এতে শিশু দুটির বাবা ও পরিবারের সদস্যরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

সাকিব হোসেন অভিযোগ করে বলেন, তার স্ত্রী কেন সন্তানদের রেখে চলে গেছেন, তা তিনি জানেন না। তবে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের ইশারায় এমনটি হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি সন্দেহ করছেন। তিনি আশা করেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে মারিয়া দ্রুত ফিরে এসে সন্তানদের দায়িত্ব নেবেন।

ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে কী কারণে মারিয়া নবজাতক সন্তানদের রেখে চলে গেছেন, তা এখনো জানা যায়নি।

ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকছেদুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা গত রাতে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) পেয়েছি। আমরা শিশুদুটির মাকে খুঁজে বের করে তাঁদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

সংবাদটি rupalibangladesh.comওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। তথ্যের সঠিকতা ও মালিকানা বিষয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে অনুগ্রহ করে মূল সূত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।