টাঙ্গাইল-৩ আাসন: ‘ধানের শীষে’ বিদ্রোহের শিস
প্রার্থী পরিবর্তন না হলেও নির্বাচন করবেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী আজাদ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে এক জোট হয়েছেন দলের মনোনয়নবঞ্চিত দুই নেতা ও তাঁদের অনুসারীরা। দুই নেতার একজন দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ নির্বাচনে লড়াবেন বলে সর্বমহলে গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে।
আসনটিতে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ও ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নতুন মুখ অ্যাড. এসএম ওবায়দুল হক নাসির। তাঁর বিপক্ষে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দলটির মনোনয়নবঞ্চিত বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা সাবেক এমপি ও প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা লুৎফুর রহমান খান আজাদ। তাঁর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে দলের আরেকটি পক্ষ। ওই পক্ষটি হলো বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য ও পূর্ব ঘাটাইলের পাহাড়ি লাল মাটির কৃতী সন্তান মাইনুল ইসলাম। সম্প্রতি উপজেলার দেওপাড়া ও ধলাপাড়ায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আরোগ্য কামনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে এলাকার ভোটারদের উদ্দেশে আজাদের দেওয়া কয়েকটি ভিডিও বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যাহা মুহুর্তেই ভাইরালও হয়েছে।
বিএনপির নেতারা বলেন, ওবায়দুল হক নাসিরকে এবার দলীয় মনোনয়ন দেওয়ায় আজাদ ও মাইনুল অনুসারী ক্ষুব্ধ। প্রার্থী ঘোষণার পর তাঁরা মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ, সড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচি পালন করেন।
বিগত ৩৭ বছরের ইতিহাসে লুৎফর রহমান খান আজাদ ছাড়া কাউকে এই আসন থেকে বিএনপি’র প্রার্থী হতে দেখা যায়নি। এ আসনে ১৯৯১, ১৯৯৬, ও ২০০১ সালের ৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনসহ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র মনোনয়ন পেয়ে টানা তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমান খান (আজাদ)। এমপি হয়ে তিন দফা বিএনপি’র মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছিলেন তিনি। মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়ে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মন্দির, হাসপাতাল, দৃষ্টিনন্দন পৌরসভা, ব্রিজ কালভার্ট তৈরির পাশাপাশি দিনের বেলায় পাহাড়ি জনপদ দিয়ে মানুষ যেখানে হেঁটে যেতে ভয় পেতেন সেই দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের আনাচে-কানাচে পাকা রাস্তা নির্মাণ করে আধুনিক ঘাটাইলের রূপকার হিসেবে তিনি খেতাব অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। ঘাটাইলে যত উন্নয়ন হয়েছে মূলত তার হাত ধরে হয়েছে।







আপনার মতামত লিখুন
Array