গোপালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসে পতাকা উত্তোলন
টাঙ্গাইলের গোপালপুর থানা মোড়ে অবস্থিত বাংলাদেশ আওয়াামী লীগের পরিত্যক্ত উপজেলা কার্যালয়ে রাতের আধারে জাতীয় পতাকা, আওয়ামী লীগের দলীয় পতাকা উত্তোলন ও ব্যানার টানানো হয়েছে।
বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতের কোন এক সময় গোপালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম তালুকদার সুরুজের নেতৃত্বে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দিয়ে পতাকা উত্তোলন করে ব্যানার টানানো হয়।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ বা কোন সহযোগী সংগঠনের নেতা রিমন শেখ তার ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। তবে, তার দলীয় পরিচয় পাওয়া যা নাই। Rimon sheikh BD নামের ফেসবুক একাউন্টের ভিডিও পোস্টের ক্যাপসনে তিনি লিখেন “Soto monir MP তাং ১৮.০২.২০২৬ইং গোপালপুর উপজেলা আওয়াামী লীগ অফিসে পতাকা উত্তোলন করেন গোপালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম তালুকদার সুরুজ ভিপি ভই নেতৃত্বে”।
৩৬ সেকেন্ডের ঐ ভিডিওতে দেখা যায়, গোপালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সাইফুল ইসলাম তালুকদার সুরুজ বক্তব্য রাখছেন। বক্তব্যে তাকে বলতে শোনাযায়, সামনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে ফিরবে, আমরাও ফিরবো। জনাব ছোট মনির মহোদয়েরে নেতৃত্বে আমরা আহবান জানাই, গোপালপুরের প্রত্যেকটা আওযামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষকলীগ, শ্রমিকলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতৃবৃন্দ যে যেখানে আছেন আসেন আমর ঐক্যবদ্ধ হই। আজকে থেকেই ঐক্যবদ্ধভাবে সংগঠনকে গুছিয়ে নিয়ে আমরা আগামী দিনে এই গোপালপুরের মাটিতে অবশ্যই আবার সংগঠিতভাবে ফিরে আসবো, এই হোক আজকে আমাদের প্রানপ্রতিজ্ঞা, জয় বাংলা। ভিডিওতে বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীর উপস্থিতি দেখা গেছে। তবে তাদের নাম ও দলীয় পদ জানা যায় নাই। ঘটনাটি নিয়ে উপজেলা শহরসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামগঞ্জে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা বলেন, থানার মূল ফটক সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত নিষিদ্ধ ঘোষিত উপজেলা আওয়ামী লীগের পার্টি অফিসে ব্যানার টানিয়ে প্রকাশ্যে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়া হয়েছে। অথচ পুলিশ এ বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি। পুলিশের নাকের ডগায় কিভাবে নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানার টাঙানো হলো? কার সাহসে স্লোগান দেওয়া হলো? আইন কি সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য, নাকি কারও জন্য ভিন্ন নিয়ম?
উপজেলা বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, এমন ঘটনা প্রশাসনের অজান্তে ঘটার সুযোগ নেই। ফলে জনমনে সন্দেহ দানা বেঁধেছে, এখানে কোনো ধরনের নীরব মধ্যস্থতা বা প্রভাব কাজ করছে কি না। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং প্রশাসনকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে। অন্যথায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ছাত্র-জনতা আওয়ামী লীগের অফিসটি ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর থেকে অফিসটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।








আপনার মতামত লিখুন
Array