নাগরপুরে মাদ্রাসার ভেতরেই চলে মাদকের আড্ডা: শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে শঙ্কিত অভিভাবকরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৩০ অপরাহ্ণ
নাগরপুরে মাদ্রাসার ভেতরেই চলে মাদকের আড্ডা: শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে শঙ্কিত অভিভাবকরা

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার বাবনাপাড়া এলাকায় মাদকের ভয়াল থাবায় বিপন্ন হচ্ছে সামাজিক ও ধর্মীয় পরিবেশ। বিশেষ করে বাবনাপাড়া মসজিদ কমপ্লেক্স দাখিল মাদ্রাসা এবং সংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত বসছে মাদকসেবীদের আসর। পবিত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং লোকালয়ের ভেতরে এমন জনাকীর্ণ স্থানে মাদকের আড্ডায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন সন্ধ্যা নামার পর থেকেই বাবনাপাড়া মসজিদ কমপ্লেক্স দাখিল মাদ্রাসার নির্জন স্থানগুলোতে মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে মাদকসেবীদের এই বেপরোয়া কার্যকলাপে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। মাদ্রাসার ভেতরে মাদক সেবনের ফলে সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে নেশাদ্রব্যের অবশিষ্টাংশ, যা কোমলমতি শিশুদের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
একই সাথে এলাকাটিতে মাদকসেবীদের আরেকটি প্রধান আস্তানা হয়ে উঠেছে বাবনাপাড়া খাল সংলগ্ন এলাকা। স্থানীয়রা জানান, পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কমিটির সভাপতি শিব শংকর সূত্রধরের বাড়ির পাশে খালের ধারে এবং ফাঁকা বসতবাড়িতে নিয়মিত নেশার আড্ডা বসে। বসতবাড়ির এত কাছে মাদকসেবীদের অবস্থানের কারণে ওই এলাকায় নারী ও শিশুদের চলাফেরা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে বাবনাপাড়া মসজিদ কমপ্লেক্স দাখিল মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও নাগরপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রফিজ উদ্দিন মিয়া মুঠোফোনে জানান, “আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ধারণ করেছেন।
আমরা সেই নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করছি। মাদ্রাসার মতো পবিত্র স্থানে মাদকের বিষয়ে কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। খালের পাশে ফাঁকা বসতবাড়িতে নেশার আড্ডা এখন অত্যন্ত ভয়ংকর রূপ নিয়েছে, যার ফলে আমাদের মা-বোনদের চলাফেরা করাও অনেক রিস্কি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি এর আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি অবগত করেছিলাম, আবারো তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”

এ বিষয়ে নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মুরাদ হোসেন মুঠোফোনে জানান, মাদকের বিরুদ্ধে থানা পুলিশের অভিযান সবসময়ই চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা নির্দিষ্ট এলাকাগুলোর বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি। মাদ্রাসার পবিত্রতা নষ্ট করা বা জনবসতিপূর্ণ এলাকায় মাদকের আড্ডা জমানোর সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। খুব দ্রুতই এসব স্পটে অভিযান চালিয়ে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।”

এলাকাবাসীর দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমেই বাবনাপাড়ার এই মাদক স্পটগুলো নির্মূল করে শিক্ষার সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক।

সংবাদটি khabarbangla24.comওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। তথ্যের সঠিকতা ও মালিকানা বিষয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে অনুগ্রহ করে মূল সূত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।