শিল্পকারখানা ছুটি ও শিলাবৃষ্টিতে বিপত্তি, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজট
গাজীপুরের কোনাবাড়ী, কালিয়াকৈর ও আশুলিয়া এলাকার শিল্পকারখানাগুলো একযোগে ছুটি হওয়ায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেল থেকে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যানবাহন কখনো স্থির, আবার কখনো ধীরগতিতে চলতে দেখা গেছে। এর মধ্যে হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে শিলাবৃষ্টি শুরু হওয়ায় ঘরমুখো যাত্রীদের ভোগান্তি ও আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
মহাসড়কের চান্দনা বাইপাস, কোনাবাড়ী, মৌচাক, সফিপুর এবং কালিয়াকৈরের নবীনগর সড়কের বাড়ইপাড়া, জিরানীসহ আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দুপুরের পর একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ায় তীব্র বাস সংকট দেখা দেয়। এই সুযোগে অনেক পরিবহন চালক অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। বৃষ্টির সময় অনেক যাত্রীকে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি করতে দেখা যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাজীপুর বাইপাস থেকে চন্দ্রা বাস টার্মিনাল এবং চন্দ্রা-নবীনগর সড়কের আশুলিয়ার বাইপাইল থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত প্রায় ৩৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে থেমে থেমে যানজট বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গাজীপুরের প্রায় ৪০ শতাংশ কারখানা দুপুরে ছুটি দেওয়ায় হঠাৎ সড়কে যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে গিয়ে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
চন্দ্রা ফ্লাইওভারের নিচে অপেক্ষমাণ শ্রমিক চান মিয়া বলেন, “দুপুরে কারখানা ছুটি হওয়ার পরই রওনা হয়েছি। কিন্তু চন্দ্রা এলাকায় সিরাজগঞ্জগামী কোনো বাস পাচ্ছি না। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি। এর মধ্যে বৃষ্টি আর শিলাবৃষ্টিতে চরম দুর্ভোগে পড়েছি।”
শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গাজীপুরে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৫ হাজার শিল্পকারখানা রয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে ধাপে ধাপে এসব কারখানা ছুটি দেওয়া হচ্ছে। বুধবার অধিকাংশ কারখানা বন্ধ হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার আরও ৮৩৩টি কারখানা ছুটি হওয়ার কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে কোনাবাড়ী নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম জানান, দুপুরের পর থেকে মহাসড়কে রিজার্ভ বাসের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় চাপের সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া আকস্মিক বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির কারণে যানবাহনের গতি ব্যাহত হচ্ছে। পুলিশ যানজট নিরসনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।






আপনার মতামত লিখুন
Array