হাত পেতে নয়, খেটে খায় মধুপুরের সাহেরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
হাত পেতে নয়, খেটে খায় মধুপুরের সাহেরা

খুবই দরিদ্র একজন ভূমিহীন নারী সাহেরা বেগম। তার জন্ম মধুপুর উপজেলায় হলেও বর্তমানে তিনি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বিশ্বাস বেতকা ধোপাপাড়া এলাকায় বসবাস করেন। আনুমানিক তার বয়স ৫৫ বছর। নিজের বয়স ঠিকভাবে বলতে না পারলেও অভাব-অনটনই তার জীবনের নিত্যসঙ্গী।

তার স্বামী শুক্কুর আলী একজন ষাটোর্ধ্ব বয়স্ক মানুষ, পেশায় রাজমিস্ত্রির সহকারী (হেলপার)। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন কাজ পান।

তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে থাকলেও দারিদ্র্যের কারণে সন্তানদের পড়াশোনা করাতে পারেননি। ছেলে-মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। ছেলে পাশের এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন এবং অটোরিকশা চালান। তার আয়ও সীমিত হওয়ায় সংসারে সবসময় অভাব-অনটন লেগেই থাকে।

সাহেরা ও তার স্বামী যে ঘরে থাকেন, তার ভাড়া ২২০০ টাকা। সংসারের খরচ চালাতে সাহেরা প্রতিদিন টাঙ্গাইল শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে মানুষের ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের বোতল কুড়িয়ে সংগ্রহ করেন।

পরে সেগুলো কুমুদিনী কলেজ এলাকার একটি দোকানে বিক্রি করেন। বোতল বিক্রি থেকে পাওয়া সামান্য আয় দিয়েই কোনোভাবে খাবারের ব্যবস্থা করেন তারা। এভাবেই দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে চলছে সাহেরার জীবন।

টাঙ্গাইল নতুন বাস টার্মিনাল এলাকায় সোনিয়া ক্লিনিকের পাশে সাহেরা বেগমের সঙ্গে কথা হয় প্রতিবেদকের। নিজের জীবনের গল্প বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “হাত পেতে খাই না, খেটে খাই। আমার স্বামী বয়স্ক মানুষ, সপ্তাহে দুই-তিন দিনের বেশি কাজ করতে পারেন না। যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার চলে না। আমার ছেলে আলাদা বাসায় থাকে, তারও আয় কম।”

তিনি আরও বলেন, “মধুপুরে আমাদের বাবার বাড়ি, স্বামীর বাড়িও কাছাকাছি। আমাদের কোনো জমিজমা নাই। খুবই গরিব মানুষ আমরা, তাই ছেলে-মেয়েদের পড়াতে পারিনি। ১৬ বছরের বেশি সময় ধরে টাঙ্গাইল শহরে আছি। যে আয় হয়, তা দিয়ে ঠিকমতো খেতেও পারি না, আবার ঘরভাড়াও দিতে হয়।”

সাহেরা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, “নিজস্ব ঘর করার সামর্থ্য নাই। কোনো সরকারি সহযোগিতাও কখনো পাইনি। একটা আশ্রয় থাকলে অন্তত বাকি জীবনটা কোনোভাবে কাটিয়ে দিতে পারতাম।”

রূপালী বাংলাদেশ