জামায়াতের জোট ছাড়ছে এনসিপি, যা জানা গেল
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১৩ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির এই সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আগামী মাসেই আসতে পারে বলে জানিয়েছে জামায়াতের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র।
বুধবার (২৯ জুলাই) সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে জোটবদ্ধভাবে অংশ নিতে আগ্রহী নয় জামায়াত। এ অবস্থায় এনসিপিও জোট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে দলীয় পর্যায়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে এ সিদ্ধান্তের একটি বড় উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখানে দুই দলই আলাদাভাবে মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। জামায়াতে ইসলামী থেকে প্রার্থী হয়েছেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম এবং এনসিপির পক্ষ থেকে প্রার্থী হয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া।
এর আগে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট থেকে বেরিয়ে যায় খেলাফত মজলিস। এরপর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়—এনসিপিও জোট ছাড়তে যাচ্ছে।
এনসিপির একাধিক সূত্র জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া এই তরুণদের দলটির ভেতরে জোট রাজনীতির সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি কওমি ধারার ইসলামপন্থী দলগুলোর সঙ্গে নতুন রাজনৈতিক সমঝোতা এবং বিকল্প জোট গঠনের সম্ভাবনাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
দলটির নেতাদের মতে, এনসিপির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য একটি বৃহৎ জাতীয় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা। জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে থাকলে সেই সুযোগ সীমিত হয়ে যেতে পারে বলে তাদের ধারণা।
এদিকে, এনসিপি জোট থেকে বেরিয়ে গেলে সংসদের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের পদ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তিনি বিরোধীদলীয় কোটায় চিফ হুইপ নির্বাচিত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জামায়াত। ফলে এনসিপি জোট ত্যাগ করলে দলটি বিরোধীদলের অংশ না থাকায় তার পদে থাকার ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে।
এই পরিস্থিতিতে নতুন চিফ হুইপ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। জামায়াতের একটি সূত্র জানিয়েছে, এ পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নজিবুর রহমানের নাম আলোচনায় রয়েছে।
উল্লেখ্য, বিরোধীদলীয় কোটা থেকে ব্যারিস্টার নজিবুর রহমান সংসদের ডেপুটি স্পিকার হওয়ার সম্ভাব্য তালিকায়ও ছিলেন।
অন্য দিকে চিপ হুইপ পদের বিষয়টি বিষয়ে জানতে চাইলে আলোচনায় উঠে আসে অন্য আরেক তথ্য। ব্যারিস্টার নজিবুর রহমান নিকটবর্তী একটি সূত্র রূপালী বাংলাদেশকে জানিয়েছেন, বিষয়টি এখনো গুঞ্জন হিসেবেই নিচ্ছি আমরা। এখনো এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
তার তথ্য অনুযায়ী, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই নিয়ে কিছুটা ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। ফলে প্রাথমিকভাবে দুই দলের মধ্যে সমোঝোতা চলছে। তবে দল ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা কেউ-ই করেনি।







আপনার মতামত লিখুন
Array