গোপালপুরে নারী কর্মী লাঞ্ছনার প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:০৬ অপরাহ্ণ
গোপালপুরে নারী কর্মী লাঞ্ছনার প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারণাকালে নারী কর্মী লাঞ্ছনার ঘটনায় টাঙ্গাইলের গোপালপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গোপালপুর পৌর মহিলা শাখার উদ্যোগে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে গোপালপুর পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে বিপুলসংখ্যক নারী কর্মী অংশ নেন। বিক্ষোভ মিছিলটি পৌর এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে মানববন্ধনের মাধ্যমে শেষ হয়।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী বক্তারা বলেন, নির্বাচনী প্রচারণাকালে নারী কর্মীদের ওপর হামলা ও লাঞ্ছনার ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। এ ধরনের কর্মকাণ্ড গণতন্ত্রের মূল চেতনা, আইনের শাসন ও মানবাধিকারের পরিপন্থী। তারা অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার সময় নারী কর্মীদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বক্তারা আরও বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে রাজনৈতিক কর্মীদের, বিশেষ করে নারী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। নির্বাচনকালীন সময়ে নারী কর্মীদের ওপর এ ধরনের আচরণ নির্বাচনী পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং সমাজে নেতিবাচক বার্তা দেয়।

মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিত করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান বক্তারা। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) টাঙ্গাইলের গোপালপুর এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি প্রার্থী মাওলানা মো. হুমায়ুন কবীরের নির্বাচনী প্রচারণাকালে নারী কর্মীদের ওপর হামলা ও লাঞ্ছনার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রচারণার সময় কয়েকজন নারী কর্মীকে উদ্দেশ্য করে অশোভন আচরণ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।

এ ঘটনার পরপরই স্থানীয় পর্যায়ে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। জামায়াতে ইসলামী নেতারা দাবি করেন, নির্বাচনী মাঠে বিরোধী রাজনৈতিক মত দমনের অংশ হিসেবেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। তারা বলেন, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে বাধা দেওয়া হলে তা গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ।

বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নারী কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ নির্বাচনকালীন উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন তারা।